নতুন ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রথম মাসে রেকর্ড তৈরি, কন্ট্রোল শেখা ও ছোট সমস্যা ধরার সেরা সময়। ডেলিভারি দিনকে কেনার প্রক্রিয়ার শেষ ভাববেন না; এটি মালিকানার প্রমাণ তৈরির শুরু।

ডেলিভারির দিন

  • মডেল, রং, ফ্রেম বা চেসিস নম্বর ও দৃশ্যমান অবস্থা দেখুন।
  • স্কুটার, লেবেল, ব্যাটারি, চার্জার, চাবি, আনুষঙ্গিক ও ওডোমিটারের ছবি তুলুন।
  • ইনভয়েস, ওয়ারেন্টি কার্ড, ম্যানুয়াল, রেজিস্ট্রেশন কাগজ ও সার্ভিস যোগাযোগ নিন।
  • ব্যাটারি ও চার্জারের সিরিয়াল লিখে রাখুন।
  • চালান সই করার আগে আঁচড়, ঢিলা অংশ, সতর্কতা কোড, ক্ষতি বা অনুপস্থিত জিনিস দেখুন।
  • ব্যাটারি কীভাবে চার্জ, সংরক্ষণ ও জরুরি অবস্থায় সামলাতে হবে জিজ্ঞেস করুন।

ডেলিভারি রেকর্ড ডিজিটাল ও অফলাইনে রাখুন। কিছু অনুপস্থিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ছবি দিয়ে দ্রুত লিখিতভাবে জানান।

১–৩ দিন: নিরাপদ সেটআপ

শুকনো, বাতাস চলাচল করে এমন পার্কিং ও চার্জিং জায়গা ঠিক করুন। সকেট ও চার্জার উপযুক্ত কি না এবং কেবল জরুরি পথ আটকাচ্ছে না নিশ্চিত করুন। শুধু সরবরাহ করা বা অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করুন।

স্টার্ট পদ্ধতি, রাইডিং মোড, ডিসপ্লে সতর্কতা, ব্রেক, ওজন সীমা, পানির সীমা ও সংরক্ষণের নির্দেশ পড়ুন। যাত্রী, ভারী মাল বা অচেনা ব্যস্ত রাস্তায় শুরু করবেন না।

প্রথম সপ্তাহ: স্কুটার শিখুন

  • নিয়ন্ত্রিত জায়গায় শুরু, থামা, মোড়, ধীর ভারসাম্য ও হালকা ব্রেক অনুশীলন করুন।
  • লাইট, ইন্ডিকেটর, হর্ন, আয়না, স্ট্যান্ড, থ্রটল ফিরে আসা ও দুই ব্রেক পরীক্ষা করুন।
  • টায়ারের চাপ মেপে নির্ধারিত সীমা বুঝুন।
  • আপনার স্বাভাবিক রাস্তা ও কম চার্জে স্কুটারের আচরণ লক্ষ্য করুন।
  • বিক্রেতা, সার্ভিস ও জরুরি যোগাযোগ সেভ করুন।

জনসাধারণের রাস্তায় সর্বোচ্চ গতি পরীক্ষা করবেন না। যাত্রী বা ঘন ট্রাফিকে যাওয়ার আগে কন্ট্রোল শিখুন।

দ্বিতীয় সপ্তাহ: রেঞ্জ ও চার্জিংয়ের ভিত্তি তৈরি করুন

একই ধরনের যাত্রায় শুরুর চার্জ, দূরত্ব, রুট, গতি, ওজন, আবহাওয়া, ঢাল, টায়ারের চাপ ও শেষের চার্জ লিখুন। একটি যাত্রা ব্যাটারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, তবে বারবার রেকর্ডে স্বাভাবিক আচরণ বোঝা যায়।

স্বাভাবিক চার্জে কত সময় লাগে লিখুন এবং চার্জার, সকেট ও ব্যাটারিতে অস্বাভাবিক গরম, গন্ধ, শব্দ বা সতর্কতা আছে কি না দেখুন। অস্বাভাবিক কিছু হলে চার্জ বন্ধ করুন।

তৃতীয় সপ্তাহ: পরীক্ষা ও প্রশ্ন

  • টায়ার, ব্রেক, ফাস্টেনার, লাইট, কেবল, চার্জিং পোর্ট ও ব্যাটারি কেসিং দেখুন।
  • প্রথম সার্ভিসে কী হবে এবং কখন হবে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন।
  • ওয়ারেন্টি দাবি, ডায়াগনসিস ও সার্ভিসের ঠিকানা নিশ্চিত করুন।
  • ক্ষয়যোগ্য অংশ, অতিরিক্ত চার্জার বা ব্যাটারি পাওয়ার পথ জিজ্ঞেস করুন।
  • রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও মালিকানার কাগজ সঠিকভাবে এগোচ্ছে কি না দেখুন।

বড় সমস্যা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিক্রেতার টেকনিশিয়ান বা সামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রাংশ নেই—এটি তখন জানতে যাবেন না।

চতুর্থ সপ্তাহ: মালিকানার সিস্টেম তৈরি করুন

রেকর্ড যা রাখবেন
পরিচয় ফ্রেম, মোটর, ব্যাটারি ও চার্জারের সিরিয়াল।
টাকা ইনভয়েস, পেমেন্ট, রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিসের রসিদ।
ব্যবহার দূরত্ব, রুট, ওজন, আবহাওয়া ও রেঞ্জের নোট।
নিরাপত্তা ঘটনা, সতর্কতা কোড, ক্ষতি ও মেরামত।
সাপোর্ট বিক্রেতা, সার্ভিস, ওয়ারেন্টি ও জরুরি যোগাযোগ।

ম্যানুয়ালের সার্ভিস সময় অনুযায়ী টায়ারের চাপ, ব্রেক, চার্জিং সরঞ্জাম ও সার্ভিসের রিমাইন্ডার দিন। পার্কিং, তালা, হেলমেট ও বৃষ্টির পরিকল্পনাও নিয়মের অংশ করুন।

শুরুর সতর্কতার লক্ষণ

বারবার বন্ধ, চার্জিং ব্যর্থতা, হঠাৎ রেঞ্জ কমা, অস্বাভাবিক গরম, ফোলা, লিক, ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ, পানি ঢোকা, ব্রেক দুর্বল, স্টিয়ারিং নড়া বা স্থায়ী ত্রুটি কোড হলে বিক্রেতা বা যোগ্য সার্ভিসে যোগাযোগ করুন। ওয়ারেন্টির কথা এড়াতে ব্যাটারি খুলে মেরামত করবেন না।

প্রথম মাসই আপনার বেসলাইন: নতুন অবস্থায় নথি রাখুন, ঝুঁকি কম থাকতেই স্কুটার শিখুন এবং জরুরি হওয়ার আগে সাপোর্টের প্রশ্ন করুন।

সারকথা

ডেলিভারির অবস্থা লিখুন, নিরাপদ চার্জিং তৈরি করুন, নিয়ন্ত্রিত জায়গায় অনুশীলন করুন, একই ধরনের যাত্রা মাপুন এবং সব কাগজ ও যোগাযোগ রাখুন। সতর্ক প্রথম মাস নিরাপদ রুটিন ও ওয়ারেন্টি বা কারিগরি সহায়তার ভালো প্রমাণ তৈরি করে।